দাঁতের যত্নে অবহেলা থেকেই বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি !!!!!
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল কারণ ব্যাকটেরিয়া ও প্রদাহ। আমাদের মুখে প্রায় ৭০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া বাস করে। দাঁতের গোড়ায় খাদ্যকণা জমে তৈরি হয় ‘প্ল্যাক’, যেখানে থাকা ব্যাকটেরিয়া মাড়িতে সংক্রমণ ঘটায়। এর ফলে হয় ‘জিনজিভাইটিস’, যা চিকিৎসা না করালে রূপ নেয় ‘পেরিওডোনটাইটিস’-এ। এই রোগে সংক্রমণ মাড়ির গভীরে পৌঁছে দাঁতের চারপাশের হাড় ও টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই সংক্রমণ মাড়ির আলগা রক্তনালীর মাধ্যমে শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। রক্তের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া মিশে হৃদপিণ্ডের ধমনিতে পৌঁছে যায় এবং মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে।
ঝুঁকি যেভাবে বাড়ে
১. অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস: রক্তে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধমনীর দেওয়ালে আটকে থাকা কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধমনিকে সরু ও শক্ত করে তোলে। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
২. প্রদাহ বৃদ্ধি: মুখের ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রদাহজনিত প্রোটিন (সি-রিয়াকটিভ প্রোটিন) বাড়ায়, যা রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে ও রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায়। ফলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
৩. এন্ডোকার্ডাইটিস: বিরল হলেও এই ব্যাকটেরিয়া হৃদপিণ্ডের আস্তরণে সংক্রমণ ঘটিয়ে হৃদযন্ত্রের ভাল্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
যাদের ঝুঁকি বেশি
যাঁদের আগে থেকেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে কিংবা ধূমপান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মুখের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। এই সব কারণ শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
প্রতিরোধের উপায়
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হৃদপিণ্ডের সুরক্ষায় মুখের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দিনে অন্তত দু’বার ব্রাশ করা এবং প্রতিদিন ফ্লস ব্যবহার করা প্রয়োজন।
বছরে অন্তত দু’বার দাঁতের ডাক্তারকে দেখানো উচিত, এমনকি দৃশ্যমান কোনো সমস্যা না থাকলেও।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য থেকে বিরত থাকা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।
মাড়ি থেকে রক্তপাত, মুখে দুর্গন্ধ বা দাঁত আলগা হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, মুখের সামান্য অবহেলা ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই হৃদয়ের যত্ন শুরু হোক মুখগহ্বর থেকেই।
তথ্য সুত্র :
